রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন

বকেয়ার না পেয়ে সাইফ এসসি’র বিরুদ্ধে জামাল ভুঁইয়ার অভিযোগ

দেশের ফুটবলের পোস্টার বয় তিনি। ডেনমার্কে বেড়ে ওঠা জামাল ভুঁইয়া আত্মীয় পরিজন ছেড়ে দেশের টানে পড়ে আছেন বাংলাদেশে। ডেনমার্কসহ ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে অবারিত খেলার সুযোগ পেয়েও তিনি বাংলাদেশকেই বেছে নিয়েছেন ফুটবল ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে। জাতীয় দলের অধিনায়কত্বও করছেন অনেক দিন হলো। ২০১৩ সাল থেকে টানা খেলছেন লাল-সবুজ জার্সিতে। ঘরোয়া ফুটবলেও জারি আছে এই মিডফিল্ডারের দাপট। দল বদলের বাজারে তার চাহিদাও ওপরের দিকে। অথচ তিনিই সম্প্রতি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছে বকেয়া বেতনের দাবিতে করেছেন লিখিত অভিযোগ। জামালের কাঠগড়ায় তার গেল তিন মৌসুমের দল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব।

এ মাসের শুরুতে বাফুফেকে দেওয়া চিঠিতে জামাল দাবি করেছেন সাইফের কাছ থেকে তিন মাসের বেতন বাবদ এখনও ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পান। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিতে বেশ কিছু প্রমানাদিও বাফুফের কাছে জমা দিয়েছেন জামাল। এখন অপেক্ষায় আছেন সুবিচারের। বাফুফের কাছ থেকে সেটা না পেলে প্রয়োজনে ফিফার কাছে নালিশ করার পরিকল্পনা করে রেখেছেন এই মৌসুমে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রে নাম লেখানো জামাল ভুঁইয়া।

বাফুফের কাছে দেয়া অভিযোগপত্র, সাইফের সঙ্গে গত মৌসুমে করা চুক্তিনামাসহ বেশ কিছু তথ্য দেশ রূপান্তরের হাতে এসেছে। তা ঘেঁটে দেখা গেছে ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর মাসিক সাড়ে ৫ লাখ টাকা বেতনে সাইফের সঙ্গে নতুন করে এক বছরের চুক্তি হয় জামালের। চুক্তির শর্ত ছিল সারা বছরের বেতনের ২৫ শতাংশ ক্লাব চুক্তি স্বাক্ষরের সময় জামালকে বুঝিয়ে দিবে। সবকিছুই চলছিল ঠিকঠাক। সাইনিং মানিসহ বেতনও পাচ্ছিলেন নিয়মিত। তবে এই বছর শুরু থেকেই বেতনটা অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

বাফুফের কাছে অভিযোগ পত্রে জামাল উল্লেখ করেন, ‘এ বছর ২ আগস্ট মৌসুম শেষ হওয়ার পর আমি আমার তিন মাসের বকেয়া বেতন দাবি করি। ক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকও কথা দেন দ্রুতই সেটা তারা আমাকে দেবে। আমি প্রত্যাশা করি ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও জুলাই এই তিন মাসের বেতন চলতি নভেম্বরের মাঝামাঝি তারা আমাকে দেবে। এ মাসে আমি সাইফের শীর্ষ কর্মকর্তা তরফদার রুহুল আমিন, তরফদার সাইফ, সাধারণ সম্পাদক (আসাদুজ্জামান রনি) ও ম্যানেজারের (শাহেদুল আলম শাহেদ) বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। তবে তাদের কেউই আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি এবং বকেয়াও শোধ করেনি। তাই বাধ্য হয়েই অভিযোগ করছি। আশা করছি ফিফার নিয়ম অনুযায়ী আমি প্রতিকার পাবো।’

সাইফের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ জামাল দেশ রূপান্তরের কাছে সাইফ এসসি’র কর্ণধার তরফদার রুহুল আমিনের সম্প্রতি ভারত থেকে পাওয়া মাদার তেরেসা পদক প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবি জানান, ‘নিজের খেলোয়াড়দের প্রাপ্য (বেতন) বুঝিয়ে না দিয়ে একজন পদক নিয়েছে। আমি মনে করি সম্প্রতি পাওয়া সেই পদক তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া উচিত। আমি বাফুফের কাছে অভিযোগ করেছি বকেয়ার জন্য। অবাক লাগে যখন দেখি সাইফের অন্য সব খেলোয়াড় এমনকি যারা একটা ম্যাচও খেলেনি, তাদের ঠিকই বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। আমিই একমাত্র লোক যে বেতনটা পুরোপুরি পাইনি। এটা বড্ড হতাশার। অথচ গত তিন মাসে দেখেছি সাইফ অন্য অনেক খেলায় দিব্যি টাকা বিনিয়োগ করছে। তারা হকির ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনেছে, সাঁতারে টাকা দিচ্ছে। অথচ আমার বেতনটা দিতেই তাদের সমস্যা।’

অনন্যোপায় হয়ে জামাল বাফুফের দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রতিকার না পেলে ফিফায় নালিশের কথাও বলেছেন তিনি, ‘আমি এর মধ্যেই একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি। প্রয়োজনে আইনজীবীর মাধ্যমে আমি ফিফার কাছে যাবো প্রতিকারের জন্য।’

ডেনমার্কের অন্যতম সেরা দল এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে খেলা জামাল শীর্ষ পর্যায়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন ২০০৯ সালে ডেনিস দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব হেলারআপ আইকেতে নাম লিখিয়ে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত আরও দু’টি ক্লাব ঘুরে তিনি ২০১৬ সালে যোগ দেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে। দুই মৌসুম জামালে খেলার পর ২০১৬-২০১৭ মৌসুম কাটান শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রে। এরপর ২০১৭ সালে যোগ দেন সাইফে। সেখানে তিন মৌসুম খেলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মাঝে অবশ্য কলকাতা মোহামেডানের হয়ে ২০২০-২০২১ মৌসুমে আই-লিগে খেলে এসেছেন জামাল। এ ছাড়া জাতীয় দলের হয়ে এর মধ্যেই ৬৮ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ডও তার হাতে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com